চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী: আলোর শহরের গল্প

জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় চন্দননগর আলোয় সেজে ওঠে। কীভাবে এই আলোর ঐতিহ্য গড়ে উঠল, পুজো কত বড়, আর কীভাবে যাবে।

শেষ যাচাই: · 6 সূত্র

পুজোর ইতিহাস

চন্দননগরে পাড়ার সার্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজোর সাল হিসেবে উইকিপিডিয়ায় ১৭৯০ লেখা আছে। একই লেখা বলছে, চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর একদম শুরুর ইতিহাস অজানা। (সূত্র: Wikipedia, Chandannagar)

আলোর কাজ আর আলোকশিল্পী

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুরো এলাকা স্থানীয় কারিগরদের তৈরি আলোয় সাজে। এই আলো এখন মূলত বিদ্যালঙ্কা এলাকার শিল্পীরা বানান, আর তা বাংলা, ভারত ও বিদেশের নানা উৎসবে যায়। শ্রীধর দাসের মতো শিল্পীদের নাম করা হয়েছে, যাঁদের এলইডি প্যানেলে গল্প চলে, ছবি নড়ে। (সূত্র: Wikipedia, Chandannagar)

২০২৪-এর ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন বলছে, প্রথম বাল্ব-আলো সরবরাহ করেছিল হাওড়ার মহাকালী ইলেকট্রিক, আর বাগবাজার জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি প্রথম সেটা ব্যবহার করে। তার আগে গ্যাসের আলো আর ডে-লাইট ছিল। শিল্পী অসীম দে বলেছেন, তিনি ১৯৮৮ সালে এখানে এলইডি এনেছিলেন। এ ছাড়া শ্রীধর দাস, তারক শেঠ আর বাবু পালের নামও জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে এসেছে। (সূত্র: ETV Bharat, Chandannagar Jagaddhatri Puja lighting (9 Nov 2024))

২০২৪-এর একই প্রতিবেদন জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঠেকাতে মাটির নীচে বিদ্যুতের তার বসানোর জন্য ১০৬ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছিল। (সূত্র: ETV Bharat, Chandannagar Jagaddhatri Puja lighting (9 Nov 2024))

পুজো কত বড়, আর শোভাযাত্রা

২০২৫-এর প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকায় ১৮০টি পুজো কমিটির কথা আছে, বেশিরভাগই পুরনো রীতি মেনে চলে। ওই বছর পুজো চলে পাঁচ দিন, আর সব প্রতিমা একাদশীতে বিসর্জন হওয়ার কথা ছিল। (সূত্র: ETV Bharat, Chandannagar set to worship tallest Jagadhatri idol (2025))

২০২৫-এ কানাইলাল পল্লির প্রতিমা ছিল প্রায় ৭৫ ফুট উঁচু, বাঁশের কাঠামোয় ফাইবারের। ওই পাড়ার আগের সবচেয়ে উঁচু জগদ্ধাত্রী ছিল ২৬ ফুটের। উইকিপিডিয়া বলছে, এখানকার প্রতিমা কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রতিমার প্রায় তিন গুণ উঁচু। (সূত্র: ETV Bharat, Chandannagar set to worship tallest Jagadhatri idol (2025))

বিসর্জনের রাতে বড় বড় কমিটি আলো আর থিম সাজানো প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রায় বেরোয়; ২০২৪-এ শোভাযাত্রা চলেছিল ১১ নভেম্বর সন্ধে থেকে ১২ নভেম্বরের ভোর পর্যন্ত। (সূত্র: ETV Bharat, Chandannagar Jagaddhatri Puja lighting (9 Nov 2024))

কীভাবে যাবে

চন্দননগর স্টেশন (কোড CGR) হাওড়া থেকে ৩৩ কিমি দূরে, হাওড়া–ব্যান্ডেল অংশে। উইকিপিডিয়া লিখেছে স্টেশনটি জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত। (সূত্র: Wikipedia, Chandannagar railway station)

দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী কলকাতার জন্য ২০২৬-এর জগদ্ধাত্রী পুজো বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর। নবমী তিথি ১৮ নভেম্বর সকাল ৬টা ০৪ থেকে ১৯ নভেম্বর সকাল ৭টা ০৫ পর্যন্ত। (সূত্র: Drik Panchang, Jagaddhatri Puja 2026 (Kolkata))

💡 পুজোর রাতগুলোয় স্টেশন আর রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড় হয়। সন্ধের আগেই পৌঁছে যাও, ফেরার ট্রেনের সময় আগে থেকে দেখে রাখো, দলের সঙ্গে দেখা করার জায়গা ঠিক করো, আর বাচ্চা-বয়স্কদের হাত ধরে রাখো। আলো দেখতে হাঁটতে হয়, তাই আরামের জুতো পরো।

প্রশ্নোত্তর

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কবে শুরু হয়?
উইকিপিডিয়ায় পাড়ার সার্বজনীন পুজোর সাল ১৭৯০ লেখা আছে, তবে একদম শুরুর ইতিহাস অজানা বলা হয়েছে।
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২৬-এ কবে?
দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৬ (নবমী)।
হাওড়া থেকে চন্দননগর কত দূর?
চন্দননগর স্টেশন হাওড়া থেকে ৩৩ কিমি, হাওড়া–ব্যান্ডেল অংশে।
চন্দননগরে কতগুলো জগদ্ধাত্রী পুজো হয়?
২০২৫-এর প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকায় ১৮০টি পুজো কমিটির কথা আছে।
চন্দননগরের আলো কারা বানান?
স্থানীয় কারিগররা, এখন মূলত বিদ্যালঙ্কা এলাকার। শ্রীধর দাস, তারক শেঠ, বাবু পাল আর অসীম দে-র নাম শিল্পী হিসেবে এসেছে।

জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২৬জগদ্ধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা কার্ডকানাইলাল পল্লি, চন্দননগর

আরও গল্প

সূত্র